আসেফ বায়াত

আসেফ বায়াত

অধ্যাপক আসেফ বায়াত একজন সমাজবিজ্ঞানী। গণ আন্দোলন, বিপ্লবী অভ্যুত্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন তিনি। আরব বসন্ত নিয়ে কাজ বিশেষভাবে সমাদৃত। বায়াতের কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে তিনি তার রাজনৈতিক বিশ্লেষণের কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। বর্তমানে শিক্ষকতা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়েস বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিদ্যা বিভাগে। একুশ শতকের বিকেন্দ্রিভূত আন্দোলন, অভ্যুত্থানগুলোকে ব্যাখ্যা করতে যে কয়জন গবেষক কাজ করছেন বায়াত তাদের মধ্যে অন্যতম।

“মানুষ বিপ্লব নিয়ে না ভাবলেও বিপ্লব ঘটে যেতে পারে”: আসেফ বায়েতের সাথে কথোপকথন

আমার মতে বিশ শতকের বিপ্লব এবং যেগুলোকে আমি “একুশ শতকে নতুন প্রজন্মের বিপ্লব” নামে অভিহিত করি সেগুলোর মধ্যে বিশেষ পার্থক্য রয়েছে। প্রথমত, আন্দোলনের দিক থেকে এই নতুন প্রজন্মের বিপ্লবগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে সমৃদ্ধ এবং দর্শনীয়। কিন্তু অভিজাতগোষ্ঠী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তাৎপর্যপূর্ণ কোনো পরিবর্তন আনতে এগুলো হতাশাজনকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিশ শতকের বিপ্লবগুলোতে যেরকম সংগঠন ও নেতৃত্ব ছিল এগুলোর ক্ষেত্রে মোটামোটিভাবে সেটার অভাব দেখা গেছে। অর্থাৎ, বিশ শতকের বিপ্লবগুলোতে আয়াতুল্লাহ খোমেনি বা ভ্যাক্লাভ হ্যাভেলের, ম্যান্ডেলা বা গান্ধীর মতো যেমন নেতাদের আমরা পেয়েছি, এই নতুন বিপ্লবগুলোতে সেরকম কোনো নেতা ছিল না। সংগঠনের দিক থেকে এগুলো ছিল অনেক বেশি আনুভূমিক। নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা একে অপরের সাথে সংযুক্ত ছিল। এবং অতি অবশ্যই বলতে হয় মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ও নন-মুভমেন্টের মাধ্যমেও যুক্ত ছিল অনেক মানুষ।